নারী দিবসের ভাবনা – পান্না আহমেদ


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৩, ২০২৩, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ /
নারী দিবসের ভাবনা – পান্না আহমেদ

আমাদের জন্ম, জীবন, জীবনাচার, শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতি, মননে, ভাবনায় যিনি ওতোপ্রেত ভাবে জড়িয়ে আছেন, তিনি মা। কখনো বোন, কন্যা, বন্ধু নানান রূপে যিনি জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি হচ্ছেন নারী। আমরা সমাজের সর্বস্তরের সবাই আশা করি আমাদের সুখদুঃখের সঙ্গী হবেন এই নারী। যুগে যুগে কালে কালে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই নারী নানান রূপে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে।
মূলতঃ বন্ধন, সুখদুঃখে পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষার প্রয়োজনে পরিবার ও পারিবারিকতা, সমাজ ও সামাজিকতার সৃষ্টি হয়েছে। এর পুরোটাই ভালোবাসা তথা নারীকে ঘিরে।

নারী সবসময়ই ত্যাগ সংগ্রামের মাধ্যমে পরিবারকে বেঁধে রেখেছে, আমাদের সমাজের ইতিহাস তাই সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু জাহেলিয়াতের যুগ থেকেই নারীর মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার যুদ্ধ সর্বজনবিদিত। প্রথম যুদ্ধই ছিলো বেঁচে থাকার যুদ্ধ। তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভোটাধিকার, লিঙ্গ সমতা, প্রজনন অধিকার, নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, শারীরিক, মানসিক হেনস্তা ও বলৎকারের মতো ভয়াবহ বিষয়।১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথম বার নারী শ্রমিকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই দিনটি পালন করা হয়।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ভিন্নভিন্ন চেহারায় নারী নিগৃহীত। সম্ভবত নিউজিল্যান্ডে প্রথম শুরু হয় সার্বজনীন নারী ভোটাধিকার আন্দোলন। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে একটি দিন নারী দিবস। এটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ৮ই মার্চ বিভিন্ন দেশে এইদিনটিকে বিশেষভাবে পালন করা হয়।বিশ্বব্যাপী নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের কাজের প্রশংসা ও ভালোবাসা দেখিয়ে নারীদের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়নের ও অর্জনের চর্চাই এই দিবসের উদ্দেশ্য। প্রথম ১৯০৯ সালে নারী দিবস পালন করা হয়।জার্মান রাজনীতিবিদ ও কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন “ক্লারা” দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আয়োজন করেন ১৯১০ ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এ। বিশ্বের সতেরোটি দেশ থেকে ১০০ জন নারী এতে যোগ দেন। এ সম্মেলনে ৮ই মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কেউ কেউ খুবই আঁতেলের মতো বলেন একটা বিশেষ দিন কেন সবদিনই তো নারী দিবস হতে পারে। কিন্তু তা নয়, লিঙ্গবৈষম্য কমাতে, নারী পুরুষের সমানাধিকারের জন্য সারা বিশ্ব জুড়েই এই দিনটিকে পালন করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবছরও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের থিম রয়েছে! এইবারের থিম DigitALL : lnnovation and technology for gender equality. অর্থাৎ। বিজ্ঞান প্রযুক্তিক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা।

এই মুহুর্তে উন্নত বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তে পুরুষ রা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছে।নারী দিবসের রং মূলত বেগুনী সাদার মিশেল কিংবা শুধুই বেগুনী। বেগুনী ভেনাসের রং, নারীর প্রতীক, যা সুবিচার ও মর্যাদা নির্দেশ করে।নারীর দৃঢ়তা আন্দোলন আর প্রতিবাদের প্রতীক ও বেগুনি। এই বেগুনী রঙের সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ইউনিয়ন থেকে। বেগুনীরঙ কে দেখাহতো নারীর সম্মান ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে।

১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকদের হাতেই নারী দিবসের সূচনা হয়। ১৫০০০ হাজার নারী সেদিন নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে এসেছিল। ১৯৯৬সাল থেকে জাতিসংঘ নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ঘোষণা করে আসছে। মূলত নারীমুক্তি সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যই নারী দিবসের লক্ষ্য।
জানিনা কত কত দিন এই দিবস পালন করলে নারীর, বিশেষ করে আমাদের দেশের নারীমুক্তি ঘটবে? নির্যাতন বলৎকার যৌতুকের বলি বন্ধ হবে? শারীরিক মানসিক অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে? নিমেষেই শরীরের প্রতি কটাক্ষ বন্ধ হবে? (তথ্যসূত্র গুগল নেটওয়ার্ক)।