মিয়ানমার থেকে দুই মর্টার শেল এসে পড়ল বাংলাদেশে


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৯, ২০২৪, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ /
মিয়ানমার থেকে দুই মর্টার শেল এসে পড়ল বাংলাদেশে

ওহাইও সংবাদ : সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির তুমুল লড়াই হচ্ছে। সোমবার মিয়ানমার থেকে দুটি মর্টার শেল এসে পড়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে। এর আগে গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ১৩টি মর্টার শেল ও দুই রাউন্ড গুলি বাংলাদেশে এসে পড়ে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘সেখানে আরাকান আর্মি আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত হচ্ছে। সেই সংঘাতের মর্টার শেল আমাদের দেশে এসে পড়েছে। এটি আমরা অবশ্যই নজর রাখছি।’  পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক আছে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

আশা করি, মিয়ানমার থেকে আর কোনো মর্টার শেল এসে বাংলাদেশে পড়বে না। আমরা সতর্ক রয়েছি।’

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুলির শব্দ ও মর্টার শেল পড়ার ভয়ে তুমব্রুর শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

গতকাল স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল কম। সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে তুমব্রুর পাঁচটি স্কুল নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া  জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘর্ষের ঘটনায় এপারে মর্টার শেল ও ভারী অস্ত্রের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুরা ভয় পাচ্ছে। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল কম।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তের পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুপুর দেড়টার দিকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরিস্থিতি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএনও মোহাম্মদ জাকারিয়া আরো বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নাইক্ষ্যংছড়িবাসীকে সতর্ক ও নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের রাখাইনের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদের ওপারে এসে অবস্থান করছে। সীমান্তের ওপারে মাংগালা, রোহিঙ্গা ঢং ও প্রাংপুরের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা নাফ নদ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে আসবে। তবে সেখানকার রোহিঙ্গাদের অনেকে ২০১৭ সালের মতো রাখাইন না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সীমান্ত ছাড়াও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি-তুমব্রু সীমান্তের ওপারে নলবনিয়া ও কিলাইঢং এলাকায় বেশ কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তুমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।  সূত্র: কালের কণ্ঠ