নিউইয়র্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দেবপ্রীতা দে’র অকাল মৃত্যু


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৯, ২০২৪, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ /
নিউইয়র্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দেবপ্রীতা দে’র অকাল মৃত্যু
ওহাইও সংবাদ : নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক পরিচিত, সিলেটের সেন্ট্রাল ফার্মেসি পরিবার নামে খ্যাত পরিবারের তরুণী দেবপ্রীতা দে (ব্রতী) অকালে ঝরে গেছে। মাত্র ১৮ বছরের বয়সের এ তরুণী গত ২৮ জানুয়ারি (রোববার) ভোর রাতে নিউইয়র্কের লঙ আইল্যান্ড সাউদার্ন স্টেট পার্ক হাইওয়েতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। ‘সেন্ট্রাল ফার্মেসি’ পরিবারের পরিচিত মুখ দেবাশীষ দে বাসু এবং ভার্শতি দে দম্পতির কনিষ্ঠা কন্যা দেবপ্রীতা দে। পরিবারে তাকে ব্রতী নামে ডাকা হতো। তিন বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।
পুলিশের দেয়া বিবরণে জানা গেছে, সাউদার্ন স্টেট পার্ক হাইওয়ের একজিট ৩৫ এলাকায় ইনফেনিটি গাড়ির আরোহী ছিলেন দেবপ্রীতা দে। তার বন্ধু জীবন লেইকেন(১৯) গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একজিট নেয়ার সময় একটি জিপ গাড়ির সাথে ইনফেনিটি গাড়ির ধাক্কা লাগলে গাড়িটি সড়ক পথ থেকে ছিটকে পরে গাছে ধাক্কা লাগে। ভোর পৌনে ছটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইনফিনিটি গাড়ির উভয় যাত্রীকে মৃত অবস্থায় পায়। অপর গাড়ির চালককে আহত অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কোন কারণ জানা যায়নি। নিউইয়র্ক পুলিশের একাধিক বিভাগ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এ দুর্ঘটনা সম্পর্কে কেউ কোন তথ্য জানলে পুলিশকে জানানোর জন্যও এক বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী দেবপ্রীতা পরিবারের সাথে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এলাকার করোনায় বসবাস করতেন। দুর্ঘটনার সময়টিতে তার বাবা মা দেশে অবস্থান করছেন। রোববার বেলা দুইটার দিকে পুলিশ পরিবারের খোঁজ করে দেবপ্রীতার বোনকে মৃত্যু সংবাদটি জানিয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাতেই এমিরেটসের ফ্লাইটে মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেবপ্রীতার কাকা সুব্রত দে গৌতম জানিয়েছেন তিনি সহ নিউইয়র্ক ও কানাডা থেকে পরিবারের লোকজন মরদেহ নিয়ে দেশে যাচ্ছেন। ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা পৌঁছে সেদিনেই মৃতদেহ সিলেটে নিয়ে যাওয়া হবে। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারেই সিলেট শহরের চালিবন্দরে দেবপ্রীতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
দেশে থাকা দেবপ্রীতা বাবা মা’কে দুর্ঘটনার সংবাদ জানানো হয়েছে। শোকে মুহ্যমান বাসু দম্পতি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শহরের চৌহাট্টায় বন্ধু ও স্বজনরা ভিড় করছেন শোক, সমবেদনা জানানোর জন্য। নিউইয়র্কে দুর্ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে জড়িত পরিবারটির খোঁজখবর নিতে লোকজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে। জনসমাজ সংগঠক ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী জানিয়েছেন, দেবপ্রীতার মরদেহ দেশে পৌঁছা পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতার তিনি খোঁজ খবর রাখছেন।
লং আইল্যান্ড এলাকার এসব হাইওয়েতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক দুর্ঘটনা ঘটছে। অকালে ঝরে পড়ছে প্রাণ। বিশেষ করে বিভিন্ন একজিট একমুখী সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার কারণে আতঙ্কের হাইওয়ে হয়ে উঠেছে এ ব্যস্ত সড়কটি। সূত্র: ইব্রাহিম চৌধুরীর ফেসবুক থেকে