‘আইকন অব দ্য সিজ’ সমুদ্রে ভাসল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রমোদতরী


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৯, ২০২৪, ১০:১৮ অপরাহ্ণ /
‘আইকন অব দ্য সিজ’ সমুদ্রে ভাসল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রমোদতরী

ওহাইও সংবাদ : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে থেকে যাত্রা শুরু করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী ‘আইকন অব দ্য সিজ’। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সূর্যাস্তের পূর্বে মায়ামি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি।

টাইটানিকের চেয়েও পাঁচ গুণ বড় এ প্রমোদতরী যেন সাগরের অন্তহীন নীলের মাঝে আস্ত এক মায়া নগরী। এতে আছে বিনোদনের এক অনন্য জগত।

কী রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এ প্রমাদতরীতে: আইকন অব দ্য সিজের দৈর্ঘ্য ৩৬৫ মিটার (এক হাজার ১৯৭ ফুট)। মোট ওজন দুই লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টন। এ ক্রুজ জাহাজে ২০টি ডেক রয়েছে, রয়েছে সাতটি সুইমিং পুল, ছয়টি ওয়াটার স্লাইড। এছাড়াও, তরীটির সবচেয়ে উপরের ডেকে আছে ৪০টির বেশি বার, রেস্তোরাঁ, লাউঞ্জ ও বিনোদোনস্থল। বিশাল এ তরীতে থাকতে পারবেন সাত হাজার ৬০০ জন যাত্রী। দুই হাজার ৩৫০ জন ক্রু সদস্যের পৃথকভাবে থাকার ব্যবস্থা আছে। রয়্যাল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন এ প্রমোদতরীর সামনের দিকে আছে ‘অ্যাকোয়াডোম’। সেখানে দেখা যাবে জলপ্রপাত। আরও আছে পাঁচ ডেক উঁচু ও খোলা সেন্ট্রাল পার্ক। তাতে আছে এক সাঁতারুর ভাস্কর্য ও প্রচুর গাছপালা। ‘থ্রিল আইল্যান্ড’ নামে বিশালাকার ওয়াটার পার্কও আছে এ প্রমোদতরীতে। ‘সার্ফসাইড’ নামে একটি পারিবারিক এলাকা আছে। সরাসরি সমুদ্রের দৃশ্য দেখার জন্য আছে ‘রয়্যাল প্রমেনেড’। ‘দ্য হাইডওয়ে’তে ইনফিনিটি পুলও রয়েছে। এত দিন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী ছিল রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ‘ওয়ান্ডার অব দ্য সিজ’। সেটিকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী হল আইকন অব দ্য সিজ।

যে পথে চলবে জাহাজটি: যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে পশ্চিম ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত চলবে এ প্রমোদতরী। ক্যারিবিয়ান সাগরের পূর্ব ও পশ্চিম পথ ধরে এক সপ্তাহের সফরে থাকবে এটি। এই সাত রাতের মধ্যে এক রাতে বাহামায় রয়্যাল ক্যারিবিয়ান সংস্থার একটি দ্বীপে অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হবে। সাত রাতে ইস্টার্ন ক্য়ারিবিয়ান এ সফরে বেশ কয়েকটি স্থানে ভ্রমণ করা যাবে।

আইকন অব দ্য সিজে চড়ার খরচ কত: রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনালসের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, এ বছরের শুরুতে প্রমোদতরীটির প্রথম যাত্রায় জনপ্রতি ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৮০০ ডলার থেকে দুই হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে দ্য আইকন অফ দ্য সিজের টিকিট বুকিং। তখন মাথাপিছু টিকিটের দাম ছিল এক হাজার ২৫৯ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে সেই খরচ বেশ খানিকটা বেড়েছে। বিলাসবহুল এ জাহাজে বর্তমানে কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকার সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামই এক হাজার ৭৫৬ ডলার।

পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ: তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালিত আইকন অব দ্য সিজ থেকে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকারক মিথেন গ্যাস বহু বেশি নিঃসৃত হবে বলে উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের (আইসিসিটি) মেরিন প্রোগ্রামের পরিচালক ব্রায়ান কোমার বলেন, ‘ভুল পথে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলএনজি-কে মেরিন ফুয়েল হিসাবে ব্যবহারের ফলে এ থেকে মেরিন গ্যাস তেলের চেয়ে আনুমানিক ১২০ শতাংশ বেশি গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ঘটাতে পারে।’ আর মেরিন ফুয়েলের তুলনায় এলএনজি বহু পরিশুদ্ধভাবে পুড়লেও মিথেন নিঃসরনের বড় ধরনের ঝুঁকি আছে। আর শক্তিশালী এ গ্রিনহাউজ গ্যাস মিথেন বায়ুমন্ডলে ২০ বছর ধরে কার্বনডাই অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি তাপ ধরে রাখতে পারে। পৃথিবী উষ্ণায়ন কমাতে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমানোকে বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি, রয়টার্সের।