পদ্মশ্রী সম্মাননা পাচ্ছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৫, ২০২৪, ১১:১৯ অপরাহ্ণ /
পদ্মশ্রী সম্মাননা পাচ্ছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

বিনোদন ডেস্ক : প্রথিতযশা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ভারতের পদ্মশ্রী সম্মাননা পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এ পদ্ম সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়। এটি অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

পদ্ম বিভূষণ, পদ্ম ভূষণ ও পদ্মশ্রী— এই তিন ক্যাটাগরিতে এ বছর ১৩২ জন সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হবেন জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু পাচ্ছেন পদ্মবিভূষণ।

পদ্মশ্রীর জন্য মনোনীত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্য শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত। সঙ্গীত ভুবনে তাঁর পড়াশুনা বিস্তর। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত ছাড়াও ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের ওপর শিক্ষা লাভ করেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় রেজওয়ানা বন্যা ‘ছায়ানট’ ও পরে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতেও ভর্তি হয়েছিলেন।রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা সঙ্গীত ভুবনে এসে শান্তিদেব ঘোষ, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন, এবং আশীষ বন্দ্যোপাধায়ের মতো সঙ্গীতজ্ঞদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি ‘সুরের ধারা’ নামের একটি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে এ পর্যন্ত বহু অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ‘স্বপ্নের আবেশে’, ‘সকাল সাঁঝে’, ‘ভোরের আকাশে’, ‘লাগুক হাওয়া’, ‘আপন পানে চাহি’, ‘প্রাণ খোলা গান’, ‘এলাম নতুন দেশে’, ‘মাটির ডাক’, ‘গেঁথেছিনু অঞ্জলি’, ‘মোর দরদিয়া’, ‘শ্রাবণ তুমি’ ও ‘ছিন্নপত্র’ ইত্যাদি।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদান রাখায় ২০১৬ সালে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা লাভ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক। এ ছাড়া তিনি ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, আনন্দ সঙ্গীত পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতেও তিনি বেশ কিছু পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বঙ্গভূষণ।

১৯৫৪ সাল থেকে ভারতে পদ্ম সম্মান বা পুরস্কার চালু হয়েছে। এই পুরস্কারের লক্ষ্য অনন্য কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া। শিল্প, সাহিত্য ও শিক্ষা, খেলাধুলো, চিকিৎসা, সমাজসেবা, বিজ্ঞান ও কারিগরি, জনপরিসর, নাগরিক পরিষেবা, শিল্প ও বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য ও ব্যতিক্রমী কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। জাতি, পেশা – সামাজিক অবস্থান, লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কেউ এই পুরস্কার পেতে পারেন।