চলুন আজকে বিস্ময়কর ও অনুপ্রেরণামূলক একজন বাংলাদেশী মানবিক মায়ের গল্প শুনি


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২২, ২০২৪, ১১:০৫ অপরাহ্ণ /
চলুন আজকে বিস্ময়কর ও অনুপ্রেরণামূলক একজন বাংলাদেশী মানবিক মায়ের গল্প শুনি

মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ), পেনসিলভেনিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশী মা নাদিয়া হোসেন একজন সম্পর্কহীন শিশুকে লিভার দান করে আমাদেরকে মানবতার উচ্চতায় ও সাহসিকতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ ধরনের কাজকে তিনি রুটিন কাজ হিসাবে আখ্যা দেন। নাদিয়ার মতো মানুষের মধ্যে থাকতে পেরে নিজেদেরকে আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান বলে মনে করি।

এবার দেখা যাক, কে এই নাদিয়া হোসেন? নাদিয়া হোসেন হলেন নিউর্জাসির বাসিন্দা। তাঁর বাবা হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ক-২৯ ব্যাচের ডা. জাকির হোসেন(বরিশাল) এবং মা ফারিয়েল সুলতানা(সিলেট)। নাদিয়া বিবাহিত এবং তিন সন্তানের মা। একজন পরিবেশকর্মী এবং ড্রেমোক্রেট্রিক পার্টির সাথে তিনি জড়িত।


নাদিয়ার ভাষায় “একজন জীবন্ত অঙ্গ দাতা হওয়া এমন কিছু ছিল না যা আমি এই বছরের শুরুতে নিজের জন্য কল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আমি একটি ফ্লায়ারে বেবি ইডেনের বাবা-মাকে একজন জীবিত অঙ্গ দাতার সন্ধান করতে দেখলাম, তখনই আমি সিদ্বান্ত নিলাম যে আমার যে কোনও উপায়ে ইডেনকে সাহায্য করা দরকার, ফ্লায়ারে দেখলাম আমার ব্লাড গ্রুপের সাথে ইডেনের ব্লাড গ্রুপ মিলে গেছে এবং আমি ফ্লায়ারে তালিকাভুক্ত প্যারামিটারগুলি সবগুলোই পূরণ করেছি দেখে আমার হৃদয় আশায় ভরে গেল।

পরবর্তীতে আমি নিজেই বেবীর বাবা/মা’র সাথে যোগাযোগ করি এবং ফোনে হাসপাতালকে আমার সব তথ্য দেই।কয়েকদিনের মধ্যেই আমি সেন্ট লুইতে ফ্লাইট করে চিকিৎসার জন্য অন্যান্য পরীক্ষা (এমআরআই, ইকেজি, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি) করতে গেলাম। নাদিয়া আরো বলেন যে, সে সূঁচকে ভয় পেতো কিন্তু তখন সে নিজেকে এই বলে শান্তনা দিচ্ছিলো যে, ইডেন যদি শিশু হয়েও এইসব সহ্য করতে পারে তাহলে আমার কোন অজুহাত থাকতে পারে না। তারপর গত ১৯ শে জানুয়ারি, শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানান ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি অনুমোদিত হয়েছে এবং আমার সব কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ হয়েছে শিশু ইডেনের সাথে।
অস্ত্রোপচারের পর এখনও হাসপাতালে ইডেন এবং আমি ভর্তি আছি। নাদিয়া বলেন, আমি সত্যিই সকলের কাছে কৃতজ্ঞ আমাদের উভয় অস্ত্রোপচারই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদি ও আমরা এখনও উভয়েই যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা অনুভব করি।


নাদিয়া জানান যে, ইডেনের জীবন রক্ষাকারী লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া কখনোই তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে উৎসাহ, সমর্থন এবং সহযোগিতা করার জন্য সে তার স্বামী রবার্তো থেকে শুরু করে তার প্রতিবেশী, নিজের চার সন্তানের মা যিনি প্রায় প্রতিদিন বাচ্চাদের দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, আমার বাচ্চারা যারা তাদের মাকে ছেড়ে দিয়েছিল যাতে সে দান করতে পারে এবং বন্ধুরা ফেসটাইমে কল করে আমাকে উৎসাহিত করেছে এবং আমার সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রতিষ্ঠান, MomsRising.org কে যাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্তটি নেয়া সম্ভব হয়েছে। আমাকে সময় দেয়া এবং সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

সর্বশেষ বলতে চাই যে, এটাই সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প। লোকেরা আমাকে বলেছে যে আমি বীর বা একজন দেবদূত, এবং যদিও আমি এই সদয় কথাগুলির প্রশংসা করি। মাত্র কয়েক সপ্তাহের অস্বস্তির বিনিময়ে একটি জীবন বাঁচানো মূল্যবান, আমি এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কল্পনা করতে পারি না.. আমি আপনাকে আমার প্রিয় ইডেন, ভালবাসা, যত্ন এবং সহানুভূতির সাথে তুলে ধরছি। আমরা দুজনেই যেন এই শক্তিশালী অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি এবং আমি বলতে পেরে খুব গর্বিত যে আমার এখন ইডেনের মতো আরেকটি মেয়ে আছে ”
আজ কিছুক্ষন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলাম! উহু! এখনও পেটে ব্যথা আছে এবং তা ছাড়া আমি ঠিক আছি! ইডেনের বাবা এবং আমার স্বামীর রবার্তোর চাচাতো ভাই কেভিন আমার হুইলচেয়ার ঠেলে দিচ্ছেন যাতে আমি অবশেষে আমাদের শক্তিশালী ছোট্ট যোদ্ধাকে দেখতে পারি, আমার যকৃতের কন্যা সুস্বাস্থ্য এবং সুখী ফলাফলের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যার সবই আমি শিশু ইডেনকে পাঠাচ্ছি যখন সে তার পুনরুদ্ধারের যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে! আমি আমার স্বামী রবার্তো এবং আমার বাচ্চাদের দেখতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না!