শেখ হাসিনার পর কে?


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২০, ২০২৪, ৬:২৯ অপরাহ্ণ /
শেখ হাসিনার পর কে?

শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে পঞ্চমবারের মত সরকার গঠন করলেন। তার বয়স ৭৬ বছর চলছে। আগামী ৫ বছর পর বয়স পড়বে ৮১তে। ধারণা করা যায়, এটাই তার শেষ মেয়াদ। তিনি ২০৪১ সালকে টার্গেট করেছেন। বাংলাদেশের বয়স সেই বছর ৭০ হবে।  বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি ঘাতকরা। মাত্র ৫১ বছর বয়সে তিনি জাতির পিতা হয়েছিলেন। ৫৫ বছর বয়সে তাঁকে হত্যা করা হয় সপরিবারে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকাকালে তার জৈষ্ঠ্যপুত্র শেখ কামালকে রাজনীতির মঞ্চে আনেননি। হয়ত ভেবেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ হলে তারপর আনবেন। তার জৈষ্ঠ্য সন্তান এবং কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাশা ছিল বলে জানা যায় না। শেখ হাসিনাকে এক খ্যাতনামা বিজ্ঞানীর সাথে বিয়ে দিয়ে তিনি বরং সংসারীই হতে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও তাই হয়েছিলেন। স্বামী-পুত্র-কন্যা নিয়ে তার সংসার। বিজ্ঞানী স্বামীর সাথে পুত্র-কন্যা নিয়ে বিদেশে থাকার কারণে তিনি হন্তাদের বুলেট থেকে রক্ষা পেয়ে যান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় গড়ে তোলার উদ্দেশে দেশের বাইরে থেকেই তিনি দলের হাল ধরেন। দেশে ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নেন তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে দলকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

শেখ হাসিনার নেতা হওয়া ঘটনাচক্র। বাকিটা ছিল ভবিতব্য।  তাঁর পিছনে ছিল ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের নানা স্তরের নিবেদিত এবং স্বার্থান্বেষী নেতাকর্মীরা। শেখ হাসিনা তাদেরকে তার নির্দেশনায় এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিলেন।২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি দিশাহারা হয়ে যান। কিন্তু বিএনপির ভুল পরিকল্পনা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণে তার ভাগ্য খুলে যায়। তিনি মইন ইউ আহমেদ এবং ফখরুদ্দিনের ছদ্মবেশী সেনাশাসকদের হাতে নির্গৃহীত হওয়া সত্তে¡ও জেল থেকে বেরিয়ে দ্রæত আমেরিকার বদান্যতায় রাজনীতির মঞ্চে সামনে চলে আসেন এবং ২০০৭ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে যে মেনিফেস্টো দেন তাতে দুটি বিষয় বাংলাদেশকে উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। একটি একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার, অপরটি বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যিনি ইউনিভার্সিটি অব ব্যাঙ্গালোরে কম্প্যুটার সাইন্স পড়তে পড়তে চলে আসেন আর্লিংটনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। সেখান থেকে কম্প্যুটার ইঞ্জিনিয়ারিংএ গ্রাজুয়েশন করেন।  এরপর তিনি হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল থেকে পাবলিক এ্যাডে মাস্টার্স করেন। প্রথম দিকে বিরোধী পক্ষীয় তরুণরা জয়ের কল্পিত ও পরিকল্পিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াকে তীর্যক ভাষায় কটাক্ষ করলেও আজকের বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশন ছাড়া অকল্পনীয়। প্রায় প্রত্যেকটি মানুষ এর সুফলভোগী।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল মাঝে মাঝেই বিশেষ অনুষ্ঠান করেছে, বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী থেকে তরুণ-রুণীরা নির্বাক হয়ে শুনেছে তার বাংলা ও ইংরেজিতে বলা ভিশনারি কথাবার্তা। মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয় আসছেন রাজনীতির মঞ্চে। তিনিই হবেন শেখ হাসিনার উত্তরাধিকার।

কিন্তু এর ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি। গত কয়েক বছরে তিনি অনেকবার বাংলাদেশে গেছেন। কিন্তু আসেননি লাইমলাইটে।  প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা প্রতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেন (প্যান্ডেমিকের সময় যোগ দিয়েছিলেন ভার্চুয়াল মিটিংএ)।

গত ২০০৮ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘে এলে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ডিনার রিসেপশনে যোগ দেন। ২০১৫ সালে জয়কে নিয়ে শেখ হাসিনা যোগ দেন প্রেসিডেন্ট ওবামার রিসেপশনে। এরপর আর জয় আসেননি মায়ের সাথে। ২০১৯ ও ২০২৩এ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সংবর্ধনায় যোগ দেন পুতুলকে নিয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী ঘরানায় কানাঘুষা আছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে নৌকার হাল ধরবে কে তা নিয়ে। কারণ আওয়ামী লীগে এখন পর্যন্ত বয়স্ক হোক কিংবা তরুণ হোক ঝলসে ওঠার মত কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়েও নানা কথাবার্তা আছে। এর কারণ অবশ্য জয় নিজেই। তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন তিনি তার মার পাশে নেই। গত বছর ২৯ নভেম্বর জয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন। নির্বাচনের আগে অন্য উপদেষ্টারাও ছেড়ে দেন। কিন্তু নির্বাচনে জয়ের পর অন্য উপদেষ্টারা পুনরায় যোগ দিলেও জয় যোগ দেননি। এমন কি গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও তাকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

বোঝাই যাচ্ছে, আপাতত জয় বাংলাদেশের রাজনীতির মঞ্চে আসছেন না। তাহলে শেখ হাসিনার উত্তরাধিকার কে? (উত্তরধিকার কথাটি বারবার বলা হচ্ছে ‘রাজতান্ত্রিক’ সংজ্ঞায় নয়, যিনি আসবেন তাকে নির্বাচন করেই আসতে হবে)।শেখ হাসিনার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে এই প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।