যুক্তরাষ্ট্রের টানেলকে বঙ্গবন্ধু টানেল বলে চালিয়ে দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়!


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৪, ২০২৪, ৭:২২ অপরাহ্ণ /
যুক্তরাষ্ট্রের টানেলকে বঙ্গবন্ধু টানেল বলে চালিয়ে দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়!

ওহাইও সংবাদ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অফিসিয়াল ডায়েরিতে ব্যবহার করা একটি টানেলের ছবি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ছবিটি সদ্য প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের ডায়েরির শেষ দুই পৃষ্ঠাজুড়ে ছাপানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ছবিটি চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেলের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া প্রদেশের এলিজাবেথ রিভার টানেলের ছবি। কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার যাছাই বাছাই না করেই ইন্টারনেট থেকে একটি ছবি বসিয়ে দিয়েছে। যদিও ইন্টারনেট ঘেঁটে ও বঙ্গবন্ধু টানেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষকদের দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি একটি কমিটির মাধ্যমে তৈরি করা হয়। যার নাম তথ্য নির্দেশিকা মুদ্রণ কমিটি। ডায়েরির আকার-আকৃতি, গঠন, নকশা, ছবি কি হবে তা এই কমিটিই নির্ধারণ করে দেয়। এজন্য কমিটির আহ্বায়ক সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও প্রতিজন সদস্য ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পেয়ে থাকেন।

খবর নিয়ে জানা যায়, ডায়েরিতে যা কিছু ছাপানো হয় সব ওই কমিটির অনুমোদনক্রমেই হয়। অতীতে ডায়েরিতে ডায়েরিতে ব্যবহার করা ছবি ফটোগ্রাফার থেকে অনুমতি ও ক্ষেত্রবিশেষে সম্মানি দিয়ে সংগ্রহ করা হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এফ. এম এনায়েত হোসেন বলেন, এটা বঙ্গবন্ধু টানেলের ছবি। কমিটি ডায়েরিতে দেওয়ার জন্য যেটা নির্ধারণ করেছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অসীম কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

তিনিও এই ছবিকে বঙ্গবন্ধু টানেলের ছবি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেল আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। আমি ছবিটা একটা নিউজ থেকে নিয়েছি। আমি এটা নিশ্চিত হয়েই দিয়েছি। আমাদের কমিটি সেটা অনুমোদন করেছে। এটা ভালোভাবে দেখে করা হয়েছে। তবে কোন নিউজ পোর্টাল থেকে নেওয়া হয়েছে তিনি তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কিছুটা মিল থাকলেও এটা বঙ্গবন্ধু টানেলের ছবি না।

এ বিষয় জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ বলেন, আমি ওই কমিটিতে ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, এটা কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। কারণ, একটা অসত্য ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গার ডায়েরিতে ব্যবহার করবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। এগুলো সবকিছু উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে হয়ে থাকে। এজন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টরা এর দায় এড়াতে পারেন না।