ছোট গল্প – নীলিমায় নীল – রাশিদা কামাল


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১২, ২০২৪, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ /
ছোট গল্প – নীলিমায় নীল – রাশিদা কামাল

আজ অফিস থেকে বের হতে সাড়ে পাঁচটা বেজে গেলো ডোরার। পাঁচটায় ছুটি হলেও ইচ্ছে করেই ও দেরি করে নামে। লিফটের সামনে এ সময় লম্বা লাইন থাকে। সাড়ে পাঁচটার পর আর ভিড়টা থাকে না। কিন্তু আজ লম্বা লাইন দূরে থাক কাউকেই চোখে পড়ছে না। অবাক হলো ও। আর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লো পরিবহন ধর্মঘটের কথা। তবে সেটা তো ছিলো আধাবেলা! অফিস থেকে বেরিয়ে আরও অবাক হলো। রাস্তা একদম ফাঁকা! দু একজন পথচারী চলছে গন্তব্যহীনভাবে। একটু ঘাবড়ে গেলো ও। এখন মনে পড়ছে আজ অফিসেও অনেকে অনুপস্থিত ছিলো! ভুল হয়েছে আজ—– মস্তবড় ভুল। মাও আজ বারণ করেছিলো!
দুশ্চিন্তা নিয়েই রাস্তায় পা বাড়ালো। ভাবলো কিছু একটা ব্যবস্থা হবেই! ওর বান্ধবী সাথীর বাসা অফিস থেকে কাছেই। ও হেঁটেই চলে যেতে পারবে। সাথী সব সময় বলে ওকে যেতে। মাকে একটা ফোন দিতে হবে। তবে এখন না। যদি ওখানে যেতেই হয় তখন ।
কথাটা ভাবতে ভাবতে বেশ অনেকটা পথ চলে এসেছে। না , দু একটা রিকসা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। স্থির করলো সাথীর বাসাতেই যাবে। রিকসার অপেক্ষায় ও একটু থামলো। আর সেই মুহূর্তে একটা সাদা গাড়ি এসে দাঁড়ালো ওর পাশে। দেখলো একজন লোক স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে চিন্তিতমুখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটা কি ওরই মতো ভুল করেছে ?
বিকেলের আলোটা মুছে গেছে।
অন্ধকার নেমেছে। একটু ভয় ভয় করছে ডোরার। কী করবে এখন! এই থমথমে পরিবেশে সাথীর বাসাতেই বা যাবে কী করে! হঠাৎ গাড়ির দরজাটা খুলে লোকটা ওর দিকে তাকালো। এগিয়ে এলো ওর কাছে। কোন ভনিতা না করেই বলল,
‘আপনি কারোর অপেক্ষায় আছেন ?’
‘না। কীভাবে বাড়িতে ফিরব তাই ভাবছি!’
‘বেরিয়েছেন কেন? আজ ধর্মঘট জানতেন না?’
‘জানতাম! তবে তা তো ছিলো আধাবেলা!’
‘এ ক্ষেত্রে সব কথা ঠিক হয় না!
শুনেছি শান্তিনগরে গোলাগুলি হয়েছে। তারই জের চলছে।’
ডোরার মুখটা ভয়ার্ত দেখাচ্ছে। ওর দিকে তাকিয়ে মায়া লাগছে হাসানের। মেয়েরা মুখে যা ই বলুক আসলে এ সব পরিস্থিতিতে ওরা ভয়ই পায়।
‘কোথায় যাবেন?’
‘উত্তরা।’
‘উত্তরা! এতোদূর যাওয়া তো অসম্ভব আজ!’
‘তাহলে কী হবে?’
ফ্যাকাশে মুখে ডোরা জানতে চাইলো।
সন্ধের রহস্যময় আলোতে ডোরাকে দেখে হাসানের সত্যিই খারাপ লাগলো। ও খেয়াল করলো ডোরা প্রায় ওর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে। ডোরার নিঃশ্বাস ওকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। একটা মিষ্টি মেয়েলি গন্ধ ওকে ঘিরে ধরছে আস্তে আস্তে।
‘কাছাকাছি আপনার কোন আত্মীয়স্বজন নেই?’
‘আমার এক বান্ধবীর বাসায় যাব বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু এখন তো তাও সম্ভব না! এদিকে মা বার বার ফোন দিচ্ছে!’
‘কী বলেছেন মাকে?’
‘বান্ধবীর বাসার কথাই বলেছি।’
‘কিন্তু যাচ্ছেন তো না। মিথ্যে বলার ফল কী হবে বুঝছেন তো!’
‘কিছুই বুঝছি না! মাথায় যা এসেছে তাই বলেছি! ফলাফল ভাবি নি!’
‘আজ বের হওয়াটাই ঠিক হয় নি!’
‘এখন তা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছি। মা কিন্তু বের হতে নিষেধ করেছিলো!’
‘শুনলেন না কেন!’
‘ছেলেমেয়েরা বড় হলে মার কথার দাম দেয় না! মাকে বোকা আর ভীতুর ডিমও মনে করে! তাছাড়া আধাবেলার ঘটনা যে পুরো দিনে গড়াবে তা কে ভেবেছিলো!’
‘পুরোবেলা বলছেন কেন! পুরোরাতও হতে পারে! শুনেছি মানুষও না কি মারা গেছে ! কাল পর্যন্ত কী হয় তাই ভাবছি!’
‘কী হতে পারে!’
‘সেটা তো আনপ্রেডিক্টেবল! আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে আবার সমঝোতাও হতে পারে!’
‘এতো কিছু জেনেও আপনি কেন তাহলে বেরিয়েছেন?’
‘বাধ্য হয়ে বেরিয়েছি। মা হাসপাতালে। কাল মার অপারেশন। ভাবলাম মাকে দেখে কোন না কোন উপায়ে বাসায় পৌঁছাতে পারব। কিন্তু পারলাম কই! মাঝখান থেকে আপনার দায়িত্ব এসে পড়লো!’
‘আমার কথা ভাববেন না! আপনি পারলে চলে যান!’
‘আর আপনি সারারাত এখানে থাকবেন?’
‘কিছু একটা ব্যবস্থা হবেই।’
‘সেই ব্যবস্থাটা কী বলুন! শুনে নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে যাই।’
এতো কষ্টের মধ্যেও হাসি পেলো ডোরার। তবে এর কোন উত্তর ও দিতে পারলো না। হাসানের মনে হলো মেয়েলি মিষ্টি গন্ধটা যেন গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে। ওকে যেনো ভীষণভাবে বেঁধে ফেলেছে! ও অপলক ডোরার দিকে তাকিয়ে রইলো। ওর চোখ, ঠোঁট, চিবুক হাসানকে দারুণ আকর্ষণ করছে। নিজেকে সামলালো ও। তবুও বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণ অস্বীকার করতে পারছে না। সূক্ষ্ম আকর্ষণ অথচ তীব্রভাবে ও অনুভব করছে। ডোরা এতটাই কাছে এসে দাঁড়িয়েছে যে ওর চুল, দোপাট্টা ছুঁয়ে যাচ্ছে হাসানের শরীর। আর সে কারণেই এই উন্মাদনা।
‘Excuse me, may l have your name?’
প্রশ্নটা হাসান করে ডোরার দিকে তাকালো ।
‘Sorry. আমরা এতক্ষণ কথা বলছি অথচ কেউ কারো নাম জানি না! I am Dora. ব্যাংকে কাজ করি। থাকি উত্তরা।’
‘আমার পরিচয়ও তো দিতে হবে! আমাকে হাসান নামে চেনে সবাই। থাকি ইসকাটন। আর ছোটখাট একটা ব্যবসা করি। আর কিছু বলব?’
‘না।’
গাড়ির দিকে চোখ গেলো ডোরার। গাড়ি দেখে মনে হলো না ছোটখাট কিছু করে!
‘ কী করবেন এখন? বান্ধবীর বাসায় যাবেন না কি এখানেই রাত পার করবেন!’
হাসানের কথার ধরনে আবার হাসি পেলো ডোরার। রসিক মানুষ! এতো বিপদেও মজা করছে! ওর ভালো লাগছে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ও নিজেও বেশ টের পাচ্ছে। হেসেই জবাবটা দিলো,
‘আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন! আপনিই বলুন কী করব!’
‘দায়িত্বের কথা বলেছি বটে তবে তা পেয়েছি কি না তা বুঝতে পারছি না!’
‘কিছু কথা আছে যা বুঝে নিতে হয়।’
‘দেখুন ডোরা, আমার গণ্ডিটা খুব ছোট। তাই সবকিছু বুঝে নিতে পারি না! বাই দ্যা ওয়ে অনেকক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। চলুন গাড়িতে গিয়ে বসবেন! এখানেই হয়ত থাকতে হবে আরও কিছুক্ষণ। তাছাড়া আমার চায়ের তেষ্টা পেয়েছে। আমি চা আর পকোড়া নিয়ে আসি?’
‘না না! আমাকে একা ফেলে যাবেন না!’
‘তাহলে আপনিও চলুন!’
‘আমার কিছু ভালো লাগছে না!
ভাবছি কীভাবে বাড়ি যাব!’
‘শুনুন, ভাবতে গেলেও কিছু খেতে হয়! মানুষ কত কী খায়
জানেন তো! তাছাড়া ভাবনার দায়িত্বও তো আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন! আমাকেই ভাবতে দিন!’
হাসান অনায়াসে ডোরার হাত ধরে গাড়িতে বসালো। আলিঙ্গনের উষ্ণতা ছড়াচ্ছে দুজনের শরীরে। ভালোলাগা এগিয়ে আসছে পায়ে পায়ে। লক্ষ্মী মেয়ের মতো ও গাড়িতে গিয়ে বসলো। এই ভালোলাগার অনুভূতি ওর এই প্রথম! শরীরটা অবশ অবশ লাগছে।
সবগুলো দরজা বন্ধ করলো হাসান। বন্ধ করার আগে বলল,
‘নিশ্চিন্তে বসে থাকুন। দশ মিনিটের মধ্যেই ফিরে আসব।’
আজ ডোরার সবকিছু অন্য রকম লাগছে। এই অস্বাভাবিক পরিবেশে এক অপরিচিত যুবকের সাথে সময় কাটানো একেবারেই নতুন! শক্ত হাতে ওকে ধরে আনা, দরজা লক করা, খাবার আনতে যাওয়া—–সবটাই যেন আপনা থেকে হচ্ছে! ও কোন বাঁধা দিতে পারছে না! না কি বাঁধা দিতে চাইছে না! হয়ত ভালোলাগার আবেশটা ওর মনকে ছন্দময় করে তুলেছে! তাই এই অপারগতা! ও নিজেকেই আজ চিনতে পারছে না!
ভালোলাগার কোন আকার থাকে না, থাকে শুধু সূক্ষ্ম আর তীব্র অনুভূতি! ও হয়ত আজ সেই তীব্র অনুভূতি দ্বারা জারিত হচ্ছে!
অন্ধকার নেমে আসা বাইরেটার দিকে ডোরা তাকিয়ে রইলো অপলক। হঠাৎই চোখে পড়লো
কিছু লোক এদিকেই আসছে। কারা এরা! দোকানটার দিকে তাকিয়ে হাসানকে খুঁজলো। না, ওকে দেখতে পেলো না! কী অদ্ভুত ব্যাপার! এ রকম অবস্থায় কারো চায়ের তেষ্টা পায়! লোকগুলিকে এখন ও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে! আবার তাকালো ডোরা দোকানের দিকে। দোকানটা এখন অন্ধকার। তারমানে দোকানীও লোকগুলিকে দেখতে পেয়েছে! গা কাঁপছে ওর! মানুষটার কথা শুনে ভুল করেছে ও। এতক্ষণে সাথীর বাসায় পৌঁছে যেতো! লোকগুলি যদি গাড়িটা আক্রমণ করে! ওর কী হবে তখন! ভয়ে চোখ বন্ধ করলো ডোরা। আর সেই মুহূর্তে একটা আওয়াজ কানে এলো। মুখ তুলতেই দেখলো লক খুলছে হাসান। আওয়াজ শুনে মনে হয়েছিল ওই লোকগুলিই আওয়াজ করছে! দরজা খোলার চেষ্টা করছে!
হাসান শান্ত ভঙ্গিতে সিটে বসলো। আরও শান্ত গলায় বলল,
‘আপনি পেছনের সিটে গিয়ে শুয়ে পড়ুন!’
‘মানে!’
‘আর কথা না! যা বলছি তাই করুন! তাড়াতাড়ি!’
গাড়িটা ওরা ঘিরে ফেলেছে। হাসান বাইরে এলো। ওদেরই কেউ একজন এগিয়ে এলো।
‘আজ শহরে গোলমাল জেনেও বেরিয়েছেন কেন?’
পেছন থেকে আরও একজন বলল,
‘এর ফল কী জানেন তো!’
হাসানের গলা শোনা গেলো,
‘শুনুন ভাই, আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ। দেখুন পেছনে শুয়ে আছে!’
দু একজন উঁকি দিলো। দেখতে পেলো ডোরাকে।
‘কী হয়েছে?’
‘মেয়েলি প্রবলেম। ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। দেখি ডাক্তার কী বলে!’
নেতাগোছের একজন বলল,
‘যান ভাই, সরি টু বদার ইউ।’
ডোরা বিহ্বল হয়ে পড়ে আছে। এসব কী হচ্ছে! কে ওর বউ! কিছু বোঝার আগেই হাসানের গলা শোনা গেলো। আলতো করে হাত ধরে টান দিলো।
‘উঠে পড়ুন!’
ডোরা একটুও নড়লো না। এমন কী হাতটা ছাড়িয়েও নিলো না। কেবল ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে রইলো।
‘কী দেখছেন ওভাবে?’
‘দেখছি না। ভাবছি। আপনি সত্যিই অঘটনঘটনপটীয়সী।’
‘এছাড়া আর কী করার ছিলো বলুন!’
‘তাই বলে এতোবড় মিথ্যে কথা!’
‘মিথ্যে বলেই তো বেঁচে গেলাম! তা না হলে কী হতে পারতো ভেবেছেন! গাড়িটা তো যেতই। সেই সাথে আপনাকে ধরে নিয়ে ———
কথাটা শেষ না করে ডোরার হাতটা ছেড়ে দিয়ে নিজের সিটে গিয়ে বসলো।
‘আপনার বান্ধবীর ঠিকানাটা বলুন! রিস্ক নিয়ে উত্তরা যেতে পারব না!’
নাবিকের কাছে সবুজে মাখা দিগন্তরেখা যেমন একটু একটু করে স্পষ্ট হয় তেমনি ডোরার কাছেও একটা কথা স্পষ্ট হতে লাগলো। বুকের ভেতর চাপা বুনোফুলের গন্ধ আর দুরন্ত পাখির টুই টুই ডাক ওকে মাতাল করে তুলল। অদৃশ্য একটা বন্ধন ওকে একটু একটু করে যেন বেঁধে ফেলতে চাইছে! ওর বন্ধনটা ভালোই লাগছে! মনে হচ্ছে প্রজাপতি নরম রঙিন ডানার রঙ ছড়াচ্ছে। কী রঙ ডানার! নীল না কমলা!
‘কী ভাবছেন এতো! ঠিকানাটা বলুন! রাত বাড়ছে! তাছাড়া কেউ এসে পড়লে আবার মিথ্যে কথাটা বলতে হবে!’
‘বলবেন মিথ্যেটা! আর রাত বাড়ছে বাড়ুক! আপনি তো আছেন!’
‘তো!’
হাসান গাঢ় দৃষ্টিতে তাকালো ডোরার দিকে। ওর চুল, দোপাট্টা আবারও ছুঁয়ে গেলো হাসানকে।
ডোরার মুখে কোন কথা নেই। নরম আলোর ছোঁয়ায় হাসানকে অন্য রকম লাগছে। মনে হচ্ছে মানুষটা ওর অনেকদিনের চেনা! চারদিকের নৈঃশব্দ্য আজ ভালো লাগছে। সত্যিই তো কখনও কখনও শব্দের চেয়ে নৈঃশব্দ্য ভালো! নীরবতার মধ্যে একটা উর্মিল আবেদন থাকে!
ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে গেলো হাসান। কিন্তু ডোরা নামছে না। পথটা আরও দীর্ঘ হলে ভালো হতো!
‘নামুন!’
‘আপনি নামবেন না?’
‘আমার তো নামার কথা না! শুধু পৌঁছে দেবার কথা!’
‘কথার বাইরেও কথা থাকে!’
‘থাকে বুঝি!’
‘আপনি জানেন না?’
‘সত্যিই জানি না! আমি আসলে কাঠখোট্টা মানুষ।’
কথা ঘোরালো ডোরা।
‘বাই দ্যা ওয়ে, কাল কখন আপনার মার অপারেশন!’
‘সন্ধে সাতটায়। কেন বলুন তো!’
‘দেখতে যাব আপনার মাকে।’
‘প্রতিদান দিতে চাইছেন!’
‘অসুস্থ কাউকে দেখতে যাওয়া কি প্রতিদান!’
‘আপনার আবার বাসায় ফিরতে রাত হবে। আমার জন্য ঝামেলায় পড়বেন।’
‘আজ যে আপনি আমার জন্য ঝামেলায় পড়লেন!’
কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলো হাসান। তারপর গাঢ়স্বরে বলল,
‘একটা কথা বলব ডোরা?’
‘বলুন!’
কথাটা না বলে হাসান গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ওই দৃষ্টির কাছে দৃষ্টি রাখতে পারছে না! নিজেকে মনে হচ্ছে দৃষ্টিবিহীন। অদ্ভুত একটা আবেশ ওকে ঘিরে ধরছে। মনে ভেতরের নদীটা দুলছে জলের তোড়ে।
নিজেকে কোনরকমে সামলে ডোরা বলল, ‘কী বলতে চাইলেন যেন!’
‘না থাক!’
‘কিন্তু আপনিই তো বলতে চেয়েছেন!’
‘এখন ভাবছি বলব না।’
ডোরা দরজাটা খোলার জন্য হাত বাড়ালো। নামার আগে আর একবার তাকালো হাসানের দিকে।
‘আসছি তাহলে! অনেক ধন্যবাদ।’
হাসান গভীর দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওর দিকে। মেয়েলি গন্ধটা ছুঁয়ে যাচ্ছে ওকে বার বার। ও হাত বাড়িয়ে ডোরার হাতে হাত রাখলো। একটা মৃদু চাপ দিলো।
‘ডোরা, কথাটা এখন বলতে চাই।’
ডোরা গা কাঁপছে। তবুও বলল,
‘কেন?’
‘মনে হচ্ছে কথাটা এখন বলা যায়!’
‘বলুন তাহলে!’
‘আমাদের একটা গল্প তৈরি হয়েছে সে গল্পের কী হবে?’
‘কোন গল্প?’
‘ভালোবাসার গল্প! এখনও বুঝতে বাকি আছে?’
লাজুক হেসে ডোরা বলল,
‘না।’
ডোরার শুকনো ভাবটা কেটে যাচ্ছে। ও পৌঁছে যাচ্ছে ওর ইচ্ছের কাছে। ইচ্ছেরাও তো ভালোবাসার অংশ! বুকের ভেতরের পাখিটা অনবরত ডেকে যাচ্ছে টুই টুই শব্দ করে।
প্রজাপতির ডানার রঙ চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। আর ওরা সিক্ত হচ্ছে সে রঙের ছোঁয়ায়।