বালা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সশ্রদ্ধ বিজয় দিবস উদযাপন


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১২, ২০২৪, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ /
বালা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সশ্রদ্ধ বিজয় দিবস উদযাপন

অরুন্ধতী সরকার, ওহাইও সংবাদ: গত ১৭ ই ডিসেম্বর Bengali American Liberal Arts Foundation এর সমস্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জয়শ্রী বড়ুয়ার নির্দেশনায় বিজয় দিবস উপলক্ষে মিলিত হন। বালা একটি non-profit organization যার সদর দফতর হল কলাম্বাস, ওহাইও। বালার লক্ষ্য হল সমস্ত মাতৃভাষার সংরক্ষন, প্রচার ও প্রসার তবে তার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলা ভাষা। প্রতি রবিবার বহু স্বেচ্ছাসেবী সদস্য তাঁদের অমূল্য সময় দিয়ে বাঙ্গালি শিশু ও কিশোর কিশোরীদের „মধ্যে বাংলা ভাষা তথা সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার এক নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। এছাড়াও ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বালা এক বিশেষ বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার মাটিতে বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বাঙ্গালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। বালা স্কুলের দরজা তাই সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত, বিনা পারিশ্রমিকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানা ও চেনার জন্য। তাই এইদিন শুরুতেই বালা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা মিলে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে। এরপর কবি সৌমি মুস্তাফা ভাষা দিবসের তাৎপর্য সম্বন্ধে কিছু বক্তব্য রাখেন এবং তাঁর স্বরচিত ও নিজের সুরারোপিত একটি গান গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।


বালার ছাত্রী আমালিয়া তার পিতামহের বিশেষ স্মৃতিচারণ করে যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণদান করেছেন। এরপর বালার শিক্ষক রফিক জামান একটি ছোট্ট প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে বালার শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে প্রাঞ্জল ভাষায় ফুটিয়ে তোলেন। এরপর বালার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যা অরুন্ধতী সরকার একটি দেশাত্মবোধক রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া এনামুল হক বাচ্চাদের কাছে স্বাধীনতা দিবসের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগের অবদানকে অবগত করেন। কিভাবে দলে দলে মুক্তিযোদ্ধা এই যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। কত শতসহস্র বুদ্ধিজীবীদের অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয় ইত্যাদি নানা উল্লেখযোগ্য বিষয় আলোচনা করা হয়।
নানা সুস্বাদু বাঙ্গালি খাবার যেমন, শুক্তো থেকে শুঁটকি পর্যন্ত এপার ওপার দুই বাংলার রসনার নানা স্বাদের মাধ্যমে বিদেশে বাঙ্গালিয়ানাকে তুলে ধরা হয়। সকলে মিলে “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা গাইতে গাইতে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ আগমী ২৪ শে ফেব্রুয়ারির “অমর একুশে শ্রদ্ধাঞ্জলি” অনুষ্ঠানে কমিউনিটির সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ জানান হয়।