যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতির লাশ উদ্ধার


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২, ২০২৪, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ /
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতির লাশ উদ্ধার

ওহাইও সংবাদ : যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে প্রাসাদোপম বাড়ি থেকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক দম্পতি ও তাঁদের মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাকেশ কামাল (৫৭), তাঁর স্ত্রী টিনা (৫৪) ও তাঁদের মেয়ে আরিয়ানার (১৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর এনডিটিভির।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকেশ কামাল এমআইটি স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করেছেন। শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শে তাঁর বিস্তৃত ক্যারিয়ার ছিল। তিনি ২০১৬ সালে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিলে এড-টেক নামের একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

বোস্টন গ্লোব সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে, এডুনোভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় এবং কলেজ শিক্ষার্থীদের গ্রেড উন্নয়নে শিক্ষাসহায়ক প্ল্যাটফর্ম।

শুরুতে কোম্পানিটি বেশ ভালোই করছিল। ২০১৯ সালে কামাল ডোভারে ৪০ লাখ ডলার মূল্যের ১৯ হাজার বর্গফুটের ১১টি বেডরুম বিশিষ্ট একটি বাড়ি কেনেন।

তবে নথিপত্র অনুসারে, ২০২১ সালে কোম্পানিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ থেকেই কামাল পরিবারে আর্থিক অনটনের শুরু। দম্পতিটি রিক এবং টিনা নামে পরিচিত ছিলেন।

এক বছর আগে তাঁদের প্রাসাদতুল্য বাড়িটি নিলামে তোলা হয় এবং ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক আইনি সংস্থা উইলসোনডেল অ্যাসোসিয়েটস এলএলসি ৩০ লাখ ডলারের বিনিময়ে বাড়িটি কিনে নেয়। বিক্রির সময় সম্পত্তিটির মূল্য আনুমানিক ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী টিনা কামাল ২০২২ সালে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন। এ থেকে দম্পতিটি ব্যাপক আর্থিক অনটনের মধ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৮ বছর বয়সী আরিয়ানা মিডলবারি কলেজে নিউরোসায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এটি ভারমন্টের একটি বেসরকারি কলেজ, সেখানে বছরে ৬৪ হাজার ৮০০ ডলার খরচ হয়।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে কামালের এক আত্মীয় পুলিশকে ফোন করেন। বেশ কয়েক দিন ধরে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁরা কামালের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান।

পুলিশ বলছে, ওই সময় বাড়িতে শুধু পরিবারের এ সদস্যরাই থাকতেন। ডোভার এলাকাটি ম্যাসাচুসেটসের সবচেয়ে ধনী এলাকার মধ্যে একটি।

পুলিশ বাড়ির ভেতর থেকে রাকেশ, টিনা ও আরিয়ানার লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে এ ঘটনার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হবে। ময়নাতদন্ত শেষেই বলা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

তবে রাকেশের মৃতদেহের পাশে একটি বন্দুক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরিস বলেন, ‘ঘটনাস্থলে একটি বন্দুক পাওয়া গেছে।’

পুলিশের মতে, ২০২০ সাল থেকেই ডোভারে কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনাটি বেশ মর্মান্তিক।

মরিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘নরফোক কাউন্টিতে বিশেষ করে ডোভারে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা খুবই বিরল।’