অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলোয়ার ভ্যালীর বিজয় দিবস উদযাপন


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২৩, ৯:২৫ অপরাহ্ণ /
অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলোয়ার ভ্যালীর বিজয় দিবস উদযাপন

মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ), পেনসিলভেনিয়া প্রতিনিধি: অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলোয়ার ভ্যালীর গত ১৭ই ডিসেম্বর (রবিবার) ছিলো বিজয় দিবস উদযাপন এবং নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। বিএডিভির এবারের অনুষ্ঠানের মূল স্লোগান ছিলো বিজয়ের ঐক্যতানে, লাল সবুজের প্রাঙ্গণে। বিদায়ী সভাপতি ডা: আশিক আনসার এবং তাঁর কমিটি অনবদ্য এই অনুষ্ঠান আনন্দমুখর করার লক্ষ্যে নানা উপাদান রেখেছিলেন। প্রথমত, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য দুই বিরল ব্যক্তিত্ব সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্হিত হয়ে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন ডা: সুলতানা আলম এবং ড. ডেভিড নালীন। এছাড়া আকতার আহমেদ রাশার একক শিল্প প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কন্ঠশিল্পী এস, আই টুটুল, কৃষ্ণা তিথী খান এবং জলি দাস ও তার দল। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপস্হিত থেকে বক্তব্য এবং সম্মাননা স্মারক গ্রহন করেন নিউ ইর্য়কের বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো: নাজমুল হুদা।

অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল সভাপতি ডা: আশিক আনসার দুই বিরল ব্যক্তিত্ব ডা: সুলতানা আলম এবং ডা. ডেভিড নালীনকে নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা। উক্ত আলোচনায় ডা: সুলতানা আলম তার স্মৃতির পাতা থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। আমেরিকার খালাসীদের সম্মেলনে গিয়ে তিনি এমন সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছিলেন যা খালাসীদের অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে তারা পাকিস্তানের জাহাজে আমেরিকান অশ্র তুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ফলে আমেরিকা থেকে পাকিস্তানে অশ্র পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। ডা: ডেভিড নালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বৎসর আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্হান করছিলেন।

কলেরার উপর গবেষণা করতে গিয়ে মুখে কলেরার খাবার স্যালাইন পদ্ধতি ডা: ক্যশের সাথে মিলে আবিষ্কার করে বিশ্বে ক্ষ্যাতি লাভ করেন। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৭১ সালে ভারতে শরণার্থী শিবিরের অনেকের প্রান রক্ষা পায় এবং এই কাজটি ভারতের ডাক্তাররা পরে গবেষণা পেপার বের করেন। তিনি স্লাইড শো এবং বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকাতে তাদের কর্মব্যস্ত দিনগুলির মধ্যে দিয়ে কিভাবে অসম্ভবকে সম্ভব সাধন করেছিলেন তা তুলে ধরেন। তিনি এবং ডা: গ্রীনো মিলে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার গড়ে বিভিন্ন মিডিয়া, কংগ্রেসম্যান, সিনেটর সহ বিভিন্ন মানুষের সাথে বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের গনহত্যার কথা তুলে লবিং করেন এবং অন্যান্যদের সাথে সমন্বয় করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমেরিকা সরকার পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম বারের মত শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করার মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করতে সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিলো।

অভিষেক অনুষ্ঠানে বিএডিভির সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া এবং সাধারন সম্পাদক মিনহাজ সিদ্দিকীসহ কমিটির সবাই দায়িত্ব এবং শপথ গ্রহণ করেন। উক্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি শোয়েব আহমেদ এবং নাইমুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহিদা আফরোজ, সমাজ কল্যান সম্পাদক মুনমুন কোরেশী, কোষাধ্যক্ষ আফরোজা ইউসুফী এবং সদস্য ফারজানা চৌধুরী, রাজিয়া সুলতানা, জোহরা খাতুন কলি এবং মাজরেহা বিনতে জাহের।
দায়িত্ব গ্রহনের পর নতুন কমিটির সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া উপস্হিত সকলের উদ্দেশ্যে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। সবশেষে বিদায়ী সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।