যুব এশিয়া কাপ : বিশাল জয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ


ওহাইও সংবাদ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ /
যুব এশিয়া কাপ : বিশাল জয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯৮৯ সালে যুব এশিয়া কাপের অভিষেক আসর বসেছিল বাংলাদেশে। এরপর একে একে টুর্নামেন্টের আরও ৮টি আসর মাঠে গড়ালেও শিরোপা অধরাই ছিল বাংলাদেশ যুব দলের। অবশেষে টুর্নামেন্টের দশম আসরে এসে কাঙ্খিত শিরোপার দেখা পেল ছোট টাইগাররা। টানা ৯ আসরে ব্যর্থ হলেও দশম আসরে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বাজিমাত। এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিধ্বস্ত করেই প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পেল বাংলাদেশ। গতকাল দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দলকে ১৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে টাইগার যুবারা। আগে ব্যাট করে ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলীর দারুণ সেঞ্চুরি এবং চৌধুরী মো. রিজওয়ান ও আরিফুল ইসলামের হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে ২৪.৫ ওভারে মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায় আরব আমিরাতের ইনিংস। ফলে বিশাল জয়ে অপরাজিত থেকেই প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল টুর্নামেন্টে মোট ৫ ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ যুব দল।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে আরব আমিরাতের বোলারদের তুলোধুনো করেন বাংলাদেশের শুরুর ব্যাটাররা। যদিও শুরুতে উইকেটে হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে ছোট টাইগাররা। তবে নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিংটা ঠিকই করে যান ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলী। খেলেন ১২৯ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস। নিজেদের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। আরেক ওপেনার জিশান আহমেদ ১৫ বলে ৭ রান করে ওমিদ রহমানের শিকার হয়ে ফেরার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। দ্রুতই বিপদ সামলে নেন আশিকুর রহমান শিবলী ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান। এ দুইজন ১২৫ রানের অনবদ্য এক জুটি গড়েন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৩০.৪ ওভারে দলীয় ১৩৯ রানে। রিজওয়ান ৭১ বলে চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬০ রান করে ধ্রুব পারাসার শিকার হয়ে ফিরলেও শিবলী হাঁটেন সেঞ্চুরির পথেই। রিজওয়ানের পর শিবলীকে যোগ্য সঙ্গ দেন আরিফুল ইসলাম। ব্যাট করতে নেমে তিনি রীতিমতো ঝড় তোলেন। তবে ৪৩.২ ওভারে দলীয় ২২৫ রানে আউট হয়ে যান আরিফুল। আয়মান আহমেদের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৬ চারের মারে ৪০ বলে করেন ৫০ রান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে বেশ কয়েকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪৯.২ ওভারে দলীয় ২৭৯ রানে আয়মানের বলে আউট হন অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ফেরার আগে তিনি ১১ বলে ২ চার ও এক ছক্কার মারে ২১ রান করেন। ইনিংস শেষ হওয়ার এক বল আগে আউট হয়ে যান আশিকুর রহমান শিবলীও। আয়মান আহমেদের বলে আউট হন তিনি। ফেরার আগে ১৪৯ বলে ১২ বাউন্ডারি এবং ১ ছক্কায় ১২৯ রান করেন শিবলী। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে তিনশ’র কাছাকাছি পৌঁছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। আরব আমিরাতের হয়ে আয়মান আহমেদ ৫২ রানে ৪টি এবং ওমিদ রহমান ৪১ রানে ২টি উইকেট পান।

২৮২ রানের বিশাল স্কোর গড়ার পরই বোঝা গিয়েছিল, টুর্নামেন্টের আরও একটি ম্যাচ জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শুধু জয়ই নয়, যুব এশিয়া কাপেও চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে জুনিয়র টাইগাররা। ব্যাটারদের পর কাজটা বাকি ছিল শুধু বোলারদের। স্বাগতিকদের ২৪.৫ ওভারে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট করে মারুফ মৃধা, ইকবাল হোসেন ইমন, রোহানাত দৌলা বর্ষণ এবং শেখ পারভেজ জীবনরা সেই কাজটা খুব সহজেই শেষ করেন। জয়ের জন্য ২৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে ন্যুনতম প্রতিরোধও গড়তে পারেনি আরব আমিরাতের ব্যাটাররা। স্বাগতিকরা মাত্র ৬১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরই বোঝা বিশাল জয় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের হয়ে ৪০ বলে ২ চারের মারে সর্বোচ্চ ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন ধ্রুব পারাসার। অক্ষত রাই করেন ২২ বলে ১১ রান। আর বাকি ৯ ব্যাটার নিজেদের সংগ্রহ দুই অংকের ঘরে নিতে পারেননি।

বাংলাদেশের মারুফ মৃধা এবং রোহানাত দৌলা বর্ষণ যথাক্রমে ২৯ ও ২৬ রানে পান ৩টি কর উইকেট। ১৫ ও ৭ রানে ২টি করে উইকেট নেন যথাক্রমে ইকবাল হোসেন ইমন এবং শেখ পারভেজ জীবন। টুর্নামেন্ট ও ম্যাচসেরার পুরস্কার পান বাংলাদেশ দলের সেঞ্চুরিয়ান আশিকুর রহমান শিবলী।